
দামের কসমেটিকস আর বিউটি প্রোডাক্টের তাক ভর্তি দোকানের ভিড়ে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে আমাদের ত্বকের আসল পুষ্টি লুকিয়ে আছে রান্নাঘরের খুব সাধারণ কিছু উপকরণের মাঝেই। রান্নাঘরে থাকা বিভিন্ন উপাদানে কেবল খাবারের স্বাদই বাড়ে না, বরং এগুলো আমাদের ত্বককে পুনরুজ্জীবিত ও পুষ্ট করার ক্ষমতাও রাখে। প্রাকৃতিকভাবে ঘরে তৈরি এসব উপাদান ব্যবহার করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে একদিকে যেমন ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ এড়ানো যায়, তেমনি অন্যদিকে পকেটের টাকাও বেশ ভালোভাবেই সাশ্রয় হয়।
ত্বকের ধরন ও নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী উপাদানগুলো মিশিয়ে নেওয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে আপনার হাতেই। পাশাপাশি, ঘরের জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি করা সহজ হওয়ায় ব্যস্ততার মাঝেও রূপচর্চাকে করা যায় আরও সহজ। রূপচর্চায় রান্নাঘরের উপকরণ ব্যবহারের এমনই কিছু কার্যকর উপায় নিচে দেওয়া হলো।
ত্বকের যত্নে ওটমিল এবং মধুর জুড়ি মেলা ভার। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ওটমিলের প্রদাহ-বিরোধী গুণ অত্যন্ত উপযোগী, অন্যদিকে মধু প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। এই মাস্কটি বানাতে দুই চামচ গুঁড়া ওটমিলের সাথে এক চামচ কাঁচা মধু মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট রেখে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক ফিরে পায় দারুণ সতেজতা।
ত্বক সুস্থ রাখতে এক্সফোলিয়েশন বা মৃত কোষ ঝরিয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি। নারিকেল তেল ও চিনির স্ক্রাব এই কাজটি খুব সহজেই করতে পারে। নারিকেল তেল গভীর থেকে আর্দ্রতা জোগায় আর চিনি আলতোভাবে মরা চামড়া তুলে ফেলে নিচের নরম ত্বক ফুটিয়ে তোলে। আধা কাপ নারিকেল তেলের সাথে এক কাপ দানাদার চিনি মিশিয়ে সামান্য এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করে ভেজা ত্বকে বৃত্তাকার গতিতে ম্যাসাজ করতে হবে।
আসা যাক ফলের ব্যবহারে, যেখানে অ্যাভোকাডো ও দইয়ের তৈরি ফেসপ্যাক শুষ্ক ত্বকের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অ্যাভোকাডোতে থাকা ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বককে পুষ্ট করে, আর দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে আলতোভাবে এক্সফোলিয়েট করে উজ্জ্বল করে তোলে। একটি পাকা অ্যাভোকাডোর অর্ধেক চটকে দুই চামচ দইয়ের সাথে মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট রাখলেই ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও মসৃণ।
ত্বকের পিএইচ (pH) ভারসাম্য রক্ষা এবং লোমকূপ সংকুচিত করতে টোনারের জুড়ি নেই। এক্ষেত্রে গ্রিন টি ও লেবুর রস দিয়ে চমৎকার একটি টোনার বানিয়ে নেওয়া যায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গ্রিন টির সাথে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবুর রস মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে নিলেই তৈরি হয়ে গেল প্রাকৃতিক টোনার। মুখ পরিষ্কারের পর এটি নিয়মিত স্প্রে করলে ত্বক সতেজ থাকে।
ফাটা ঠোঁটের সমস্যা দূর করতে অলিভ অয়েল ও ব্রাউন সুগারের লিপ স্ক্রাব দারুণ কার্যকর। এক চামচ অলিভ অয়েলের সাথে এক চামচ ব্রাউন সুগার মিশিয়ে ঠোঁটে হালকাভাবে স্ক্রাব করে ধুয়ে নিলেই ঠোঁট হয়ে ওঠে নরম ও আকর্ষণীয়। সপ্তাহে এক বা দুবার এই ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে প্রসাধন ছাড়াই আপনার ত্বক থাকবে প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ও উজ্জ্বল।