
রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের পূর্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজ এলাকার মাদক সমস্যা নিরসনে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি জানান, বহুবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও অতীতে হামলার শিকার হওয়ার ভয়ে পুলিশ ওই চিহ্নিত মাদক স্পটে যেতে চাইত না। পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই তিনি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তবে সংবাদ সম্মেলনের পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকাটিতে অভিযান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে যাওয়াকে সুশাসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি হিসেবে দেখছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারতেন, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়াকে সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে তারা জানান, এই পদক্ষেপ অন্যান্য মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
প্রশাসনিক এই পদত্যাগের পাশাপাশি ইশরাক হোসেনের উত্থাপিত অভিযোগগুলোকেও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল ছোটখাটো মাদক বাহকদের ধরে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত ও মিয়ানমার রুট দিয়ে আসা মাদকের মূল উৎস বন্ধ করা এবং এর পেছনে থাকা প্রভাবশালী মহলের অর্থায়নকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদক নির্মূলে শুধু অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো আর্থ-সামাজিক কারণগুলো দূর করতে সমন্বিত ও পেশাদার উদ্যোগ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশের লোকবল সংকট ও ইকুইপমেন্টের অভাব কাটিয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে না পারার বিষয়টি খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সীমাবদ্ধ সামর্থ্যের ভেতরেই তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা মাদকের রুট বন্ধে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় জোরদার করার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।