
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির ক্রিকেট নিয়মে প্রতিনিয়ত আনা নতুন নতুন সংস্কার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতিপথ ও কৌশলকে অনেকটাই বদলে দিচ্ছে। আধুনিক ক্রিকেটের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে এই নতুন নিয়মগুলোর মুখোমুখি হয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া কিছু নিয়ম বাস্তবায়নের পর থেকেই মাঠে টাইগারদের পারফরম্যান্সে একের পর এক ছন্দপতনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
খেলার কৌশলে দ্রুতার সাথে পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনাপে এক ধরণের হীনমন্যতা ও অসাবধানতা দৃশ্যমান হচ্ছে। নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় একের পর এক ম্যাচে দেখা যাচ্ছে একই ধরণের ব্যাটিং ধস। কোনো নির্দিষ্ট একজন ব্যাটার ওপর ভর করে দল কিছুটা এগোলেও মিডল কিংবা লোয়ার অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। বড় শট খেলতে গিয়ে কিংবা চাপের মুখে উইকেটে টিকে থাকার সঠিক স্ট্র্যাটেজি না থাকায় ঘনঘন উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকছে দলের স্কোরকার্ড।
ব্যাটিংয়ের এই বেহাল দশার পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও কাটছে না দুশ্চিন্তা। নতুন নিয়মে ফিল্ডিং ও ওভার রেট সংক্রান্ত কড়াকড়ির ফলে বোলিং ইউনিট তাদের স্বভাবসুলভ ছন্দ হারিয়ে ফেলছে। বিশেষ করে ম্যাচের ডেথ ওভারগুলোতে কিংবা ইমপ্যাক্ট ফিল্ডিং সেটআপের চাপ সামলাতে না পেরে দেদারসে রান বিলিয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশের বোলাররা। লেন্থ এবং পেস নিয়ন্ত্রণে বোলারদের এই ধারাবাহিক ভুল বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের জন্য বড় শট খেলা আরও সহজ করে দিচ্ছে, যার ফলে প্রতি ম্যাচেই স্কোরবোর্ডে উঠছে পাহাড়সম রান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট এবং কোচিং স্টাফরা দলের এই মানসিক ও কৌশলগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য কাজ করছেন বলে জানা গেছে। আধুনিক ক্রিকেটের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং আইসিসির কড়া নীতিমালার সাথে ক্রিকেটাররা যদি দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারেন, তবে আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে টাইগারদের জন্য টিকিয়া থাকা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পাওয়ার হিটিং বা পেস বাড়ানোই নয়, বরং চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতাই পারে বাংলাদেশকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে।