
নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৩২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র সংলগ্ন মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর থেকে পাবনামুখী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিকট শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ভেতর আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনে।
দুর্ঘটনাস্থলেই ৯ জনের করুণ মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জন মারা যান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে হতাহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোররাতের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফলে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে।