
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার এক নতুন সুযোগ উন্মোচিত হলো। নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির দেশি, বিদেশি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক বিধিমালার গেজেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত এই বিধিমালার বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
নতুন এই নিয়ম চালু হওয়ার ফলে মূলধন উত্তোলনের জন্য কোম্পানিগুলোকে আর নতুন করে সাধারণ শেয়ার ইস্যু করতে হবে না। উদ্যোক্তা বা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা তাদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সহজেই বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মূলধন বাজারে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির অংশগ্রহণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
বিএসইসির চূড়ান্ত রূপরেখা অনুযায়ী মোট সাত ধরণের প্রতিষ্ঠান সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। এর মধ্যে রয়েছে শতভাগ বা অন্তত ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ সরকারের মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া দেশে কার্যরত শতভাগ বা সর্বনিম্ন ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরীক্ষিত বিবরণী অনুযায়ী অন্তত ৫০০ কোটি টাকার নিট সম্পদমূল্য থাকা তফসিলি ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুযোগ পাবে। ব্যবসায়িক পরিধির ক্ষেত্রে খসড়া নীতিমালায় ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক লেনদেনের কথা বলা হলেও চূড়ান্ত গেজেটে বার্ষিক লেনদেন সর্বনিম্ন ১ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি এবং ভবিষ্যতে কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ পাবে।