
সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার সন্তান ড. মো. কামরুজ্জামান রিপন (এনডিসি) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিযুক্ত হয়েছেন। দেবহাটার পারুলিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাসবাড়ীর সন্তান ড. কামরুজ্জামান গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আনন্দের বন্যা বইছে তাঁর জন্মভূমিতে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ দেবহাটাবাসী তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক রেকর্ড ও সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সরকারের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে পরবর্তীতে গত ১ ফেব্রুয়ারি তিনি জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে তাঁর দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
নিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে ড. কামরুজ্জামান মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের কেন্দ্রীয় কাঠামোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সহকারী কমিশনার, ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে মাঠপর্যায়ে অবদান রেখেছেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব এবং অতিরিক্ত সচিবের মতো দায়িত্বশীল পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব সামলেছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়িত হওয়ার ঠিক পূর্বে তিনি জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর এবং এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
মেধাবী এই কর্মকর্তা শিক্ষা জীবনেও বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় তিনি নরওয়ের 'নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি' (এনটিএনইউ) থেকে 'ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ' বিষয়ে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইনফরমেশন সিকিউরিটি ফর অ্যান ইনফরমেশন সোসাইটি ইন বাংলাদেশ' বিষয়ে গবেষণা করে সম্মানজনক ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি লাভ করেন।
দেবহাটা উপজেলার সাধারণ মানুষ ও গুণীজনদের আশা, সরকারের নীতি নির্ধারণী ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ড. কামরুজ্জামান রিপন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দেশের ডিজিটালাইজেশন ও সার্বিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ অবহেলিত জনপদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিশেষ অবদান রাখবেন।