প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 19, 2026 ইং
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা বা অভিযান চালানো হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সাথে দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনার পর তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও অগ্রগতির বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চলতি সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের কূটনৈতিক অবসান ঘটানোর বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর করার পথ বা সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি পোস্ট করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে না।’’
কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা ইতিবাচক ও সঠিক পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘‘ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের (Islamic Republic of Iran) প্রতিনিয়ত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা বা বৈঠক চলছে।’’
এর আগে গত মাসের শেষভাগে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা একটি শর্তযুক্ত প্রস্তাব ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করার পর দুই পরাশক্তির মধ্যস্থতার আলোচনা কার্যত স্থবির রূপ নিয়েছিল। ইরানের মূল প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক বা সামরিক শর্ত মেনে নেয়, তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কৌশলগত দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হচ্ছে এই হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক খনিজ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এই সরু পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবাহিত হয়। ফলে সংঘাতের জেরে এই প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে কিংবা আন্তর্জাতিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে চরম বিপর্যয় ঘটে থাকে।
তবে সংকট ঘনীভূত হওয়ার মাঝেই গত সপ্তাহে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয় যে, তারা অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি বিশেষ ‘পাল্টা প্রস্তাব’ গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনাবলীর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রস্তাবটি তাদের নীতি-নির্ধারকদের কাছে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান এ বিষয়ে নিজেদের অফিসিয়াল বা আনুষ্ঠানিক মতামত ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেবে বলে তারা জোর আশা করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা ফাইলস ২০২৬