
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরবরাহ সংকট কেটে যাওয়ার ইতিবাচক আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তরতর করে কমতে শুরু করেছে। রাশিয়ার ওপর আরোপের পরিকল্পনা করা বেশ কিছু কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা হুট করেই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রভাবশালী ঘোষণার পরই এশিয়ার বাজারে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে তেলের দামে লক্ষণীয় নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোমবার সকালে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে লেনদেনের শুরুতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি এক ধাক্কায় কমে যায়। যার ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৯২ ডলারে।
এর আগে শুক্রবার এক বিশেষ আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাশিয়াসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু প্রস্তাবিত ও পরিকল্পিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের বাতিল করা এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে ছিল রাশিয়ান পণ্যের ওপর নতুন করে চড়া শুল্ক আরোপ এবং বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়ের ওপর কঠোর আইনি ও অর্থনৈতিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ।
এদিকে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাঝুঁকি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে তেল পরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর আতঙ্ক ও সংশয় তৈরি হয়েছিল। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে গত শুক্রবার বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে লাফিয়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছে যায় যা গত বছরের মে মাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ছিল।
তবে ইউক্রেন-রাশিয়া পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঘাটতি বা সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত করেছে। মূলত ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থানের এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে, যার ফলে তেলের বাজার দ্রুত নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।