
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের ফলে ছোট-বড় নানা ধরনের কনটেন্ট আমাদের সামনে আসছে। এর মধ্যে শরিয়তবিরোধী, অশ্লীল বা হারাম ভিডিওতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করা কিংবা গান-সিনেমার মতো বিনোদনমূলক বিষয়কে ‘প্রিয়’ (Favorite) বা পছন্দের তালিকায় রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান কী,তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি তথ্যবহুল ও বিস্তারিত ফতোয়া প্রদান করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারার বিশিষ্ট মুফতি মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম।
ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অশ্লীলতা বা হারাম বিষয়বস্তুযুক্ত ভিডিওতে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সেসব ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারে সহায়তা করা হয়। ইসলামে যেকোনো পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনের সুরা মাইদার ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন যে, সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করো, তবে গুনাহ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে কখনো সহযোগিতা করো না। এছাড়া সুরা নূরের ১৯ নম্বর আয়াতে মুমিন সমাজে অশ্লীলতার প্রসার যারা কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের কনটেন্টে লাইক বা পজিটিভ কমেন্ট করলে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তা আরও বেশি মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, গান বা সিনেমাকে নিজের ‘প্রিয়’ বা পছন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি ব্যক্তির ভেতরের বিশ্বাস ও মনোভাবের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে বলে ফতোয়ায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. নফসের দুর্বলতা ও অনুশোচনা: কোনো ব্যক্তি যদি গান বা সিনেমা পছন্দ করলেও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে এটি শরিয়তে নিষিদ্ধ বা হারাম এবং নিজের মনের প্রবৃত্তির তাড়না বা দুর্বলতার কারণে তিনি তা উপভোগ করছেন এবং নিজের ত্রুটির জন্য অনুতপ্ত হন তবে এটিকে মানুষের স্বভাবসুলভ নফসের দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো লজ্জিত হয়ে আন্তরিক তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
২. নিষিদ্ধ বিষয়কে হালাল মনে করা: কেউ যদি জেনেশুনে ও স্বজ্ঞানে শরিয়তে অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ কোনো বিষয়কে হালাল বা বৈধ বলে মনে করেন কিংবা তার নিষিদ্ধতার বিধানকে অস্বীকার করেন, তবে তা অত্যন্ত বিপদজনক। ফতোয়ায় সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের বিশ্বাস মানুষের ঈমানের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সুরা নাহলের ১১৬ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নিজ থেকে কোনো প্রমাণ ছাড়া কোনো বিষয়কে হালাল বা হারাম বলা উচিত নয়। এছাড়া সহিহ বুখারির ৫১৮৯ নম্বর হাদিসে বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করার কুফল সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইসলামিক স্কলারদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একজন মুমিনের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। হারাম বিষয়ের প্রচার বাড়ানো থেকে বিরত থাকা এবং কোনো বিনোদনমূলক মাধ্যমকে ভালো লাগলেও শরিয়তের মূল বিধানের পরিপন্থী বিশ্বাস পোষণ করা থেকে দূরে থাকাই ইসলামের শিক্ষা।