
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের গোয়ালিয়র জেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন। শীতলা মাতা মন্দিরে যাওয়ার পথে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে একটি ধানবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও বহু পুণ্যার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে অর্থাৎ রাত দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গোয়ালিয়রের শীতলা মাতা মন্দিরে যাওয়ার জন্য প্রচুর মানুষ তখন পায়ে হেঁটে সড়কে অবস্থান করছিলেন। চিননোর দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ভারী ট্রাক ওই সড়কের খাড়া ঢাল বেয়ে নেমে আসার সময় পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে মারাত্মকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। রাস্তার ওপর থাকা পুণ্যার্থীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রাকটি তাঁদের চাপা দেয় এবং পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পেরে মন্দিরের মূল ফটক ও বাইরের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়।
গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ধর্মবীর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, চিননোর দিক থেকে নেমে আসা ওই সড়কটিতে তীব্র ঢাল থাকায় সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাকটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং ব্যারিকেড ভেঙে নিচে নেমে এই মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা দুই পুলিশ সদস্যও এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করার জন্য ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর আহত মোট ৩৯ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ১২ জন পুণ্যার্থীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানা গেছে, যাদের শরীরের বিভিন্ন হাড় ভেঙে গেছে। বাকি আহতরা সামান্য আঘাত পেয়ে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।