
ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এই ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই নতুন নেতৃত্বের কার্যকারিতা এবং এমনকি মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়েও প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা দেশটিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত। গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে ‘অসাধারণ’ কাজ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসা এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা তেহরানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ আছেন এবং তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক মিত্ররা ইতিমধেই মোজতবা খামেনির প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেছে। তবে ট্রাম্পের সুর আগের মতোই কঠোর; তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে তবে আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। যুদ্ধের এই দামামার মধ্যে দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের নতুন নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই প্রশ্ন তোলা কেবল ব্যক্তিগত মন্তব্য নয়, বরং এটি তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংঘাত এখন কেবল সীমান্তের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন নেতৃত্বের বৈধতা আর অস্তিত্বের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। এই ক্ষমতার লড়াই আর পাল্টাপাল্টি হুমকির ফল শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।