
ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম আট মাসে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার ও রদবদল সম্পন্ন করেছে সরকার। এই সময়সীমার মধ্যে মাঠপ্রশাসন থেকে শুরু করে সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে। একই সাথে ১ হাজার ৫৫ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদান, ৩২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৫৮টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে সচিব ও সমপর্যায়ের পদে ৭৪৬ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন সচিব ও সিনিয়র সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন। এছাড়া সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) মাধ্যমে গ্রেড-১, গ্রেড-২ এবং গ্রেড-৩ পদে আরও ৩০৯ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি লাভ করেছেন। মাঠ প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে ৬ জন বিভাগীয় কমিশনার, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি), ১০৯ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ৩০৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) মোট ৫৮৯টি গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
নতুন পদে উন্নীত ও বদলির পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনে অবসর প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক ও নিয়মভিত্তিক উপায়ে পরিচালিত হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ৫৯ জনসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক অবসর প্রদানের পাশাপাশি ৩২ জন কর্মকর্তাকে আইনানুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে ৪৫তম, ৪৬তম ও ৪৭তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রাক-চাকরি পুলিশ ভিআর কার্যক্রমসহ অন্যান্য বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু আধুনিক ও প্রশংসনীয় নীতিগত সংস্কার গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মচারীদের পেনশন নিশ্চিতে 'অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম' চালু করা, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং যানবাহন মেরামতসংক্রান্ত নীতিমালার আধুনিকায়ন এর অন্যতম উদাহরণ। সরকারের এই সুসংহত পদক্ষেপগুলো প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে নাগরিক সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।