
তামিল চলচ্চিত্রের মেগাস্টার রজনীকান্তের অনবদ্য সোয়াগ এবং পরিচালক নেলসনের পরিচিত নির্মাণের সমন্বয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত 'রজনী: দ্য জেইলার ২' দর্শকদের জন্য নিয়ে এসেছে এক জাঁকজমকপূর্ণ বিনোদনের উপহার। প্রথম পর্বের সফলতার পর দ্বিতীয় পর্বটি টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ানের গল্পকে বেশ স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে নিয়ে গেছে। পুত্র অর্জুনের মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে তামিলনাড়ুর এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে নাম গোপনে বসবাস করা টাইগার কীভাবে আবারও অপরাধ জগতের শত্রুদের মুখোমুখি হন, তা নিয়েই গড়ে উঠেছে সিনেমার মূল কাহিনি। প্রথম অর্ধে অ্যাকশনের চেয়ে হাস্যরসের প্রাধান্য বেশি থাকলেও দ্বিতীয় অর্ধে নতুন খলচরিত্র এবং তারকাদের চমকপ্রদ ক্যামিও পুরো সিনেমাটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।
সিনেমার চিত্রনাট্য এবং পরিচালনায় পরিচালক নেলসন তাঁর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রথম পর্বের মতো এতেও হাস্যরস, অ্যাকশন এবং আবেগের ভারসাম্য চমৎকারভাবে বজায় রাখা হয়েছে। রজনীকান্তের সঙ্গে নামো নারায়ণ ও যোগী বাবুর কমেডি দৃশ্যগুলো প্রেক্ষাগৃহে হাসির জোয়ার আনে। পাশাপাশি ইন্টারভাল বা বিরতির মুহূর্তটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে। দ্বিতীয় অর্ধে বিদ্যা বালান, এস জে সূর্য এবং মিথুন চক্রবর্তীর মতো জ্যৈষ্ঠ অভিনয়শিল্পীদের আগমন গল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে হৃতিক রোশন, শিব রাজকুমার, মোহনলাল এবং জ্যাকি শ্রফের মতো তারকাদের বিশেষ উপস্থিতি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অভিনয়ের দিক থেকে ৭৫ বছর বয়সেও রজনীকান্ত যেভাবে তাঁর উপস্থিতি, সংলাপ পরিবেশন এবং স্টাইল দিয়ে পর্দা কাঁপিয়েছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। খলনায়ক চরিত্রে এস জে সূর্য ও সুরজ ভেঞ্জারমুডু মানানসই হলেও কিছু কিছু দৃশ্যে খলনায়কদের তুলনামূলক দুর্বল মনে হয়েছে। টেকনিক্যাল দিক থেকে অনিরুদ্ধের আবহ সংগীত এবং 'হুকুম রিলোডেড' গানটি সিনেমাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভিজয় কার্তিক কান্নানের চমৎকার চিত্রগ্রহণ এবং আর নির্মলের ধারালো সম্পাদনা পুরো সিনেমাকে গতিশীল রেখেছে, যদিও কিছু কিছু যুক্তিহীন দৃশ্য এবং গান প্রথম পর্বের সমান জমে ওঠেনি। সব মিলিয়ে থিয়েটারে বসে উপভোগ করার মতো এক অ্যাকশনপ্যাকড বিনোদন নিয়ে এসেছে 'জেইলার ২'।