
সাবেক ক্লাব রোমার মাঠ স্টাদিও ওলিমিপিকোতে কোচ হোসে মরিনহোর ফেরার রাতে এক অবিস্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য তাণ্ডবে টানা তিনটি গোল আদায় করে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে রোমার সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের এক অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। মরিনহোর অধীনে পূর্বে কনফারেন্স লিগ জয় এবং ইউরোপা লিগের ফাইনাল খেলার স্মৃতিকে স্মরণ করে ম্যাচ শুরুর আগে রোমা সমর্থকেরা নানা ব্যানার প্রদর্শনী করলেও শেষ হাসি হেসেছেন পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ড নিজেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই পরিলক্ষিত হয়। খেলার ২০তম মিনিটে মাতিয়াস সুলের বাড়ানো বল থেকে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে স্বাগতিক রোমাকে এগিয়ে দেন মার্টেন ডি রুন। তবে সেই লিড বেশি সময় ধরে রাখতে দেয়নি রিয়াল। ক্যারিয়ারের ১০০তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পে ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই সমতা ফেরান। এমবাপ্পের নেওয়া শট ডিফেন্ডার জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে গোলরক্ষক পিয়ারলুইজি গোলিনির ওপর দিয়ে জালে জড়ায়, যা চ্যাম্পিয়নস লিগে ফরাসি এই তারকার ৭২তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রিয়াল কিংবদন্তি রাউলকে অতিক্রম করে এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন।
দ্বিতিয়ার্ধে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় রোমা। ডাচ স্ট্রাইকার দোনিয়েল মালেনের ছয় মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইতালীয় দলটি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে রিয়াল অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভের্দ্যের গায়ে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করেন মালেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের আবেদন এড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যখন রিয়ালের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই নিজের পরিবর্তনের অলৌকিক জাদু দেখান কোচ হোসে মরিনহো।
ম্যাচের শেষ দিকে বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামানো কার্লোস এস্পি, এনদ্রিক এবং আর্দা গুলের ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দেন। ৮৩তম মিনিটে এনদ্রিকের হেড গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন এস্পি। এর কিছুক্ষণ পরেই গুলেরের চমৎকার কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান ব্রাজিলীয় তরুণ এনদ্রিক। আর ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আবারো গুলেরের সেট-পিস থেকে কাছ থেকে নেওয়া ক্ষিপ্র ভলিতে জয়সূচক গোলটি করেন ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। রোমা কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির রক্ষণাত্মক কৌশল ব্যর্থ করে দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তুলে নেয় স্মরণীয় এই জয়। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের দুটিতেই জয় নিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট বজায় রাখল রিয়াল।