
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পূর্ণাঙ্গ সূচনা হতে যাচ্ছে। আজ দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও বোধনের মধ্য দিয়ে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে মণ্ডপগুলো এবং আগামীকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মূল আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের পর্দা উঠবে। পঞ্জিকা মতে, এবার দেবী দুর্গা জগতে কল্যাণ ও শান্তির বার্তা নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যলোকে আগমন করবেন এবং পূজা শেষে মর্ত্য ছেড়ে নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন।
সনাতন রীতি অনুযায়ী, আগামী শনি ও রবিবার মহাসপ্তমী পালন করা হবে, যেখানে নবপত্রিকা স্নান ও বিশেষ পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার মহাঅষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সন্ধিপূজা আয়োজিত হবে, যা অষ্টমী তিথির শেষ ও নবমী তিথির সূচনার সন্ধিক্ষণে সম্পাদিত হয়। মঙ্গলবার মহানবমীর অন্তিমে দেবীকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হবে এবং পরদিন বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে বহু প্রতীক্ষিত এই শারদোৎসবের। ইতিমধ্যে সারাদেশের মণ্ডপগুলোতে প্রতিমায় রঙ তুলির শেষ ছোঁয়া ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
ধর্মীয় ও সামাজিক মেলবন্ধনের এই উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এবার নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিনে উন্নীত করেছে, যা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি করেছে। এ বছর সারাদেশে গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার বেড়ে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা আয়োজিত হচ্ছে। পূজা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।