
বাংলাদেশের রেমিট্যান্স উপার্জনের প্রধান উৎস ও শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় মারাত্মক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদগামী বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে চাকরি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধা। এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ও বিভিন্ন ট্রানজিটসহ অন্তত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিমানবন্দর ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় আটকা পড়েছেন ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী। যাত্রীদের সুরক্ষায় সৌদি ও দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী একাধিক সংস্থা রিয়াদমুখী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। অনেক যাত্রী বিকল্প পথে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট কেটে বা অন্য রুটে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেগুলোর ভাড়াও দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে, যা প্রবাসীদের জন্য নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি সুরাহা ও প্রবাসীদের চাকরি বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন উদ্যোগের অংশ হিসেবে যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাঁদের দাম্মাম বা মদিনাগামী ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিনামূল্যে সমন্বয় করে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন যে, সাময়িক নিরাপত্তাজনিত কারণেই ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে এবং প্রতিটি শ্রমিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে তাঁদের ফেরত পাঠাতে সরকার আন্তরিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।
প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ শ্রমিক সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখান থেকে প্রতি অর্থ বছরে শত শত কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। ফলে দেশটির এই হঠাৎ তৈরি হওয়া অস্থিরতা দেশের বাজারে ডলার সরবরাহ ও রিজার্ভের ওপর টান ফেলতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই উত্তাপ দ্রুত প্রশমিত না হলে শ্রমবাজার হাতছাড়া হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই দ্রুত সংকট সমাধানে ও প্রবাসীদের সার্বিক সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন তারা।