
তীব্র রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও জেল-জুলুমের মুখে পড়েও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও দলীয় নীতি থেকে কখনও বিচ্যুত হননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সালাউদ্দিন আহমেদ যে ত্যাগ ও আনুগত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, অনেক জাতীয় পর্যায়ের নেতাও তা দেখাতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত শোক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদের এই প্রয়াণ কেবল কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের জেল-জুলুম ও পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের সরাসরি পরিণতি। বয়সের বিচারে তাঁর অকালপ্রয়াণ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, ২০২৩ সালের আন্দোলনের সময় সালাউদ্দিন আহমেদকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে গ্রেপ্তার করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। কারাগারে অবস্থানকালে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে জামিন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার সুবিধাটুকু পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তৎকালীন সরকারের এমন স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক আচরণের শিকার হয়ে তাঁর শরীর চিরতরে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল।
দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী জানান, বর্তমানে দেশে যে গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশের উন্মেষ ঘটছে, সালাউদ্দিন আহমেদ তা বেশিদিন দেখে যেতে পারলেন না। তবে নেতৃত্বের প্রতি তাঁর অচলা ভক্তি, একাগ্রতা ও অকৃত্রিম আনুগত্য আগামীর তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। জানাজায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ শীর্ষনেতারা উপস্থিত হয়ে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।