
রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি বাসায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মালা বেগম (৬২) ও তার ছেলে মামুন চোকদারকে (৩৬) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি দুই লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সংস্থার পরিদর্শক ফজলুল হক খানের নেতৃত্বে ভাটারা থানার ছোলমাইদ ঢালিবাড়ী কাঁচাবাজারসংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ওই ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ঘিরে ফেলেন অভিযানকারীরা। পরবর্তীতে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের পশ্চিম পাশের একটি কক্ষের চালের ড্রামে রাখা কফি রঙের কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগের ভেতর কাগজ ও স্কচটেপে মোড়ানো মোট ১৭টি প্যাকেটে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে মালা বেগম ও তার ছেলে মামুন চোকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, এই বড় মাদকের চালানটির মূল মালিক সাহিদা বেগম ইতি (৪৮) নামের এক পলাতক নারী। কক্সবাজারের বিভিন্ন রুট থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে তা মালা বেগমের বাসায় মজুত করা হতো। এরপর সেখান থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সাইনবোর্ড এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের কাছে এসব মাদক সরবরাহ করা হতো।
ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকায় পলাতক আসামি সাহিদা বেগম ইতিকে ধরতে না পারলেও তাকেসহ গ্রেপ্তারকৃত মা-ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ভাটারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।