
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত এসেনশিয়াল ড্রাগস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় এনে উদ্ধারকাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যরাও যৌথভাবে ঘটনাস্থলে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার বেক্সিমকো রোডে অবস্থিত কারখানাটির ইউনিট-২ এর একটি বহুতল ভবনের ছয় তলায় অবস্থিত পিন সেকশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তা দ্রুত পুরো ভবনসহ আশপাশের অন্যান্য ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ড থেকে সৃষ্ট বিশাল কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর পরই টঙ্গী, গাজীপুর, জয়দেবপুর, পূবাইল এবং উত্তরাসহ নিকটস্থ বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে একে একে মোট ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু বিশাল এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এবং ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় দুপুর গড়িয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পানির সংকট মেটাতে কারখানার নিজস্ব সচল পাম্পের পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ির পানির উৎস থেকেও পানি সংগ্রহের কাজ চালানো হচ্ছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জানান, আগুনের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় বর্তমানে ২০টি ইউনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং কারখানার ভেতর থেকে আটকে পড়া কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে দুপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে কীভাবে এ আগুনের সূচনা হলো কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।