
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলার মন্দিরগুলোতে এখন বইছে উৎসবের আমেজ এবং চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। জেলায় এ বছর মোট ৪৬১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২১টি বেশি। পৌরাণিক কাহিনি ও বৈচিত্র্যময় সব থিম ফুটিয়ে তুলে দর্শনার্থীদের আকর্ষিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকেরা।
ইতিমধ্যেই জেলার অধিকাংশ মণ্ডপে দেবী দুর্গার সাথে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের রঙ-তুলির আঁচড় ও সাজসজ্জার কাজ। এর পাশাপাশি আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ নানামুখী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। রাজবাড়ী সদরে ১১৮টি, গোয়ালন্দে ২৬টি, বালিয়াকান্দিতে ১৫৮টি, পাংশায় ১০৪টি এবং কালুখালীতে ৫৫টি মণ্ডপে এবার পূজা উদযাপিত হবে। জমিদারবাড়ির ঐতিহ্যবাহী আয়োজন থেকে শুরু করে শহরের ধুঞ্চি পূর্বপাড়া সার্বজনীন মন্দিরের ৫২ খণ্ডের প্রতিমায় শ্রীরামের অকালবোধন, রাম-রাবণের যুদ্ধ এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মতো পৌরাণিক ঘটনার থিম প্রদর্শন এবার দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কাড়বে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, আনসার ও আনসার ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি সাদাপোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে থাকবে। প্রতিটি মন্দিরে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের আশাবাদ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গোৎসব।