
ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টা বড় পদক্ষেপ নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে এই হামলা চালিয়েছে তারা। সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা জানায়, মঙ্গলবারের এই হামলায় সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনেছে কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে হুথিদের মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদির বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরে যাওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সানা ও হোদাইদাহের বিভিন্ন তেল ডিপো ও বন্দরে সৌদি জোটের বিমান হামলার প্রতিউত্তরে রিয়াদসহ সৌদির প্রধান স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে রিয়াদ অভিমুখে হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর পরও ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো নিচে পড়ে চারজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই তীব্র উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে পুরো অঞ্চলের রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইতিহাদ, লুফথানসা, ডেল্টা ও কাতার এয়ারওয়েজসহ বিশ্বখ্যাত বহু আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা সৌদি আরব ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনের পাশাপাশি হুথিদের ক্রমাগত হামলার জবাবে রিয়াদ তাদের জন্য 'চড়া মাশুল' নির্ধারণের হুমকি দিয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ ও সহিংসতার দাবানল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে 'ডন অব ইয়েমেন' অভিযানের আওতায় সৌদি বিমান বাহিনীর সহায়তায় তায়েজসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের তীব্র মুখোমুখি লড়াই চলছে, অন্যদিকে নির্বিচার গোলাবর্ষণে বহু সাধারণ মানুষ ও শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।