
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্সের ককপিটে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে সংস্থাটির আরও দুই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত দুই পাইলটই মালদ্বীপের নাগরিক এবং অতীতে তারা দুজনেই ইসরায়েল সফর করেছিলেন। সম্প্রতি ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কর্তৃক ককপিটে ফ্লাইট বিধ্বস্ত করার চেষ্টা ও ক্যাপ্টেনের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে এদের কোনো গভীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
মালদ্বীপের গণমাধ্যম ‘আধাদু’-র বরাতে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মালদ্বীপের দূতাবাস গ্রেপ্তারকৃত পাইলটদের পরিবারকে আটক রাখার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। তারা দুজনেই গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ককপিটে কুঠার নিয়ে হামলায় জড়িত ওমানি ফার্স্ট অফিসার আল-হাম্মামির সহকর্মী ছিলেন। সেদিনের সেই ভয়াবহ ঘটনায় অভিজ্ঞ ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার মারাত্মক আহত হয়েও সাহসিকতার সঙ্গে আক্রমণ প্রতিরোধ করেন এবং এক ইসরায়েলি যাত্রীর সহায়তায় উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন। এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু উভয়ই ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এদিকে ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে নতুন কিছু বিস্ফোরক দাবি সামনে এসেছে। আসাফ নামের এক ইসরায়েলি যাত্রী দাবি করেন, ঘটনার সময় কিছু কেবিন ক্রুর আচরণ রহস্যজনক ছিল এবং আহত ক্যাপ্টেনের মুখে একটি অজানা বড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের দপ্তর বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নতুন দুই পাইলট গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমান বিধ্বস্ত করার এই বড় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের পেছনে কে বা কারা রয়েছে তা উদঘাটনে কঠোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।