
দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, এলপিজি সরবরাহ ও সরকারি প্রযুক্তি সেবা সচল রাখার স্বার্থে ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও বেক্সিমকো গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা ও ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—শাইনপুকুর সিরামিকস, বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ এবং বেক্সিমকো কম্পিউটার।
বিশেষ এই ছাড়ের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণ নবায়ন, নতুন ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং চলতি মূলধনের জোগান পাওয়ার সুযোগ পাবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা সার্কুলার জারি করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের কয়েকটি সংশ্লিষ্ট ধারার প্রয়োগ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্থগিত করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন এক্সিম ব্যাংক থেকে বেক্সিমকোর এই কোম্পানিগুলো সুবিধাসমূহ গ্রহণ করতে পারবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকে খেলাপি থাকা শাইনপুকুর সিরামিকসকে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে ১০৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন সীমার আওতায় এলসি খোলা ও ঋণ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে, দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ন্যাশনাল ব্যাংকে খেলাপি থাকা বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১-কে শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসা, ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মতো সংস্থায় আইটি সেবা সচল রাখতে এক্সিম ব্যাংকে থাকা বেক্সিমকো কম্পিউটারের মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাংক ও পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বিশেষ বিবেচনায় নবায়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের সহ-সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।