
বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় ও ষাটের দশকের খ্যাতনামা অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ব্যক্তিজীবনে চরম মানসিক কষ্টে কাটছিল এই গুণী শিল্পীর শেষ দিনগুলো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল হঠাৎ নিখোঁজ হন। নিখোঁজ সন্তানকে ফিরে পেতে আকুল ব্যাকুল হয়ে গণমাধ্যমে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ছেলেকে আর দেখা হয়নি তাঁর; সন্তানের ফেরার পথচেয়ে সেই অধরা আকুতি বুকের ভেতর নিয়েই চিরতরে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন এই অভিনেত্রী। তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত বিশ্বখ্যাত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে মাত্র ১৫ বছর বয়সে অভিনয়ের মাধ্যমে নাসিমা খানের বড় পর্দায় অভিষেক হয়। পরবর্তীতে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘দুই ভাই’ ও ‘গৌরী’র মতো বহু কালজয়ী বাংলা ও উর্দু সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণ জনপ্রিয়তা ও সাফল্য পান। লাহোর ও ঢাকার চলচ্চিত্রে সমান তালে কাজ করা এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর প্রয়াণে ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রথম প্রজন্মের আরও একটি সোনালী নক্ষত্রের পতনের মধ্য দিয়ে প্রবীণ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।