
পাকিস্তানের রাজনীতি বর্তমানে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কেন্দ্র করেই ঘূর্ণায়মান বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ সাংবাদিক হামিদ মীর। সম্প্রতি এক কলামে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, জরুরি অবস্থা বা গভর্নর শাসনের নাম দিয়ে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন ও অভিযান চালিয়ে দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কার্যত ‘ইমরান খান-ভীতিতে’ ভুগছে এবং এই ভীতির কারণে দেশকে এক ধরনের বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরে কেন্দ্রীয় সরকারের গড়িমসির কঠোর সমালোচনা করেন হামিদ মীর। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের এমন নতি স্বীকার না করার মনোভাবের পরই খাইবার পাখতুনখাওয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পদযাত্রার ডাক দেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ যথাযথভাবে মানা হলে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা বা খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বিতর্কিত গভর্নর শাসন জারি করার মতো পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হতো না।
প্রবীণ এই সাংবাদিক আরও বিশ্লেষণ করেন যে, অতীতের অন্য নেতাদের তুলনায় ভিন্ন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আপস কিংবা বিদেশে নির্বাসনে যেতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইমরান খান। ফলে সরকার তাঁর মুক্তি বা চিকিৎসার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখছে। ভারত ও আফগানিস্তান সীমান্তে যখন তীব্র কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে এবং ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬’-এ পাকিস্তানের অবস্থান উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিশোধ চরম রূপ নিয়েছে। তাই আঞ্চলিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান হামিদ মীর।