
জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে হাসপাতালটিতে নতুন করে ১৫৬ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ জন রোগী ভর্তি হন। হঠাৎ রোগীর এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যাসংখ্যা ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেককেই বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের মেঝে ও দুই পাশের দীর্ঘ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথম ভবনে অবস্থিত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪২টি। অথচ বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা শয্যাসংখ্যার তিন গুণেরও বেশি। সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর উপচে পড়া ভিড়ের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাঁচবিবি ও ধামইরহাটসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু ও বয়স্ক রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝে বা বারান্দায় অবস্থান নিয়ে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিক আহমদ জেবাল জানান, মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তন, দূষিত পানি পান এবং বাসি বা খোলা খাবার খাওয়ার কারণে মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যাসংকট থাকলেও হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই এবং চিকিৎসকরা সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সবাইকে খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকার এবং সবসময় নিরাপদ ও ফুটানো পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।