
দীর্ঘ ছয় বছর দীর্ঘ বিরতির পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে দশটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়েছিল।
জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন অভিজ্ঞ সদস্যের একটি বিশেষ টিম দানবাক্সে প্রাপ্ত স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিখুঁতভাবে ওজন এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
দানবাক্স খোলার পর পাওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক আর্থিক মূল্য এবং পরিমাণ গণনা শেষে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম আস্থার প্রতীক কিশোরগঞ্জের এই পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশ থেকে নিয়মিত লাখ লাখ মানুষ নগদ টাকা ছাড়াও নানা ধরনের মূল্যবান জিনিসপত্র দান করে থাকেন, যা পরবর্তীতে মসজিদ ও বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।