
ভ্রাম্যমাণ আদালতের একের পর এক অভিযান ও আর্থিক জরিমানা সত্ত্বেও গাইবান্ধা জেলায় কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস বিক্রির অবৈধ কারবার। প্রশাসনিক কড়াকড়ির পরও একাধিক উপজেলায় ক্রমাগত অসুস্থ পশু জবাইয়ের ঘটনা সামনে আসায় পুরো জেলাজুড়ে অ্যানথ্রাক্স রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। মাংসে ও আক্রান্তদের নমুনায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরীক্ষা চালিয়ে অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি অসুস্থ গাভী জবাইয়ের পর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তির শরীরে ফোসকাসহ অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ দেখা দেয়। এরপর থেকেই হরিপুর, সাহাবাজ ও সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাটে একাধিক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কসাই ও পশুর মালিকদের জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত মাংস মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়। তবে এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পরও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় পশুর আগাম রোগ শনাক্তকরণে প্রাণিসম্পদ বিভাগের তদারকি ও সক্ষমতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ভোক্তা ও সচেতন মহল।
খামারি ও প্রযোগীদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পর্যাপ্ত পরামর্শ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব রয়েছে। যার ফলে খামারিরা লোকসান এড়াতে অনেক সময় অসুস্থ পশু কসাইদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। যদিও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ চরম জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদারের দাবি করেছে। জেলাজুড়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি রোধে দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।