
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পর পর দুই দিন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানবন্দরের একটি যাত্রীবাহী টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে এই হামলায় অন্তত একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এর আগের দিন শনিবার একই বিমানবন্দরে চালানো হুথিদের সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। শনিবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশী নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। জোড়া হামলার দায় স্বীকার করে হুথি সামরিক মুখপাত্র সতর্ক বার্তা দিয়েছেন যে মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য সকল বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সম্প্রতি পরিচালনা করা সৌদি জোটের বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা এই আক্রমণ জোরদার করেছে বলে জানায়।
সৌদি জোটের সামরিক মুখপাত্র এই হামলাকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে কড়া সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।