
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা জারির পর রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো রাজধানীজুড়ে কঠোরভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি সব ধরনের নিরাপত্তা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও টিভি।
জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও মোড়গুলোতে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি), ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) এবং স্টেশন হাউজ অফিসারদের (এসএইচও) মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরে ১৪৪ ধারা অমান্য করে কোনো সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ বা ব্যানার প্রদর্শন করা হলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও কঠোর নির্দেশ রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জাতীয় অবকাঠামোর সুরক্ষায় আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জোরদার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। পিটিআই-শাসিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী লংমার্চ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজধানী ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক পর্যায়ে শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি অবস্থা জারি করার পরপরই খাইবার পাখতুনখাওয়ার সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোয়াইব আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গভর্নরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী উপদেষ্টা পরিষদের কাছে প্রদেশটির প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।