
কক্সবাজারের উখিয়ায় ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে চার বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ ওমাইরকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবিতে ঘটা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক রোহিঙ্গা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। রোববার দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শনিবার রাতে গ্রেপ্তারকৃত দম্পতির দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশু মোহাম্মদ ওমাইর ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/১ ব্লকের বাসিন্দা আবুল হামিদের ছেলে। এপিবিএন ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে হঠাৎ নিখোঁজ ছিল শিশু ওমাইর। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে জামতলী পুলিশ ক্যাম্পকে বিষয়টি অবহিত করেন। নিখোঁজের পরদিন ৯ অক্টোবর শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ এনে জানান যে একই ক্যাম্পের ডি/১৩ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুর রহমান তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে আটকে রেখেছেন এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও রোহিঙ্গা মাঝিদের সহায়তায় শনিবার দুপুরে অভিযুক্ত আব্দুর রহমানকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমের দেখানো স্থান থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বসতঘরের পাশে ময়লার ট্যাংকের টিনের বেড়ার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উখিয়া থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত রোহিঙ্গা দম্পতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।