
ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলে সুবিধাজনক স্থানে থাকা আফগানিস্তানকে তৃতীয় দিনের শুরুতেই ধসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। মাত্র ২১ রান খরচে সফরকারীদের শেষ ৬টি উইকেটের পতন ঘটিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের এক বিশাল ও স্বাস্থ্যকর লিড ছিনিয়ে নিয়েছে টাইগাররা। গতি আর সুইংয়ের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তান অলআউট হয় মাত্র ২৪০ রানে। আগের দিন শেষে সফরকারীরা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও সকালে দুই টাইগার পেসার এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের তাণ্ডবে ম্যাচটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন এবাদত হোসেন। রহমত শাহর সাথে জমে ওঠা ৮০ রানের বিপজ্জনক জুটি ভেঙে ইকরাম আলিখিলকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তিনি। এরপরই শেরে বাংলার সবুজ উইকেটে শুরু হয় পেসার হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক তাণ্ডব। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। ইসমাত আলমকে চমৎকার ইনসুইঙ্গারে বোল্ড করার পর পরের বলে আউটসুইঙ্গারে কাইস আহমেদকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন হাসান। হ্যাটট্রিক বলে নতুন ব্যাটার জিয়া আকবরকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ইতিহাস গড়েন এই তরুণ তুর্কি, যা রিভিউ নেওয়ার পর নিশ্চিত হয়।
হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পর ইয়ামিন আহমাদজাইকে সাজঘরে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট বা ফাইফার ঝুলিতে পুরেন হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন আফগান ব্যাটার রহমত শাহ, যিনি ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ ব্যাটার মোহাম্মদ সালিমকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করে আফগান ইনিংসের ইতি টানেন এবাদত হোসেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ এবং ৫৬ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন এবাদত হোসেন।