
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত সাড়ে ছয় মাসেরও বেশি সময়ে সরকারি কোনো তহবিল আত্মসাৎ বা বিন্দুমাত্র দুর্নীতি করেননি বলে দৃঢ় দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজা। সম্প্রতি দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে নিজের সজ্ঞান ও বিবেকের সম্পূর্ণ আস্থায় তিনি বলতে পারেন এই সময়ে তাঁর দ্বারা এক টাকারও রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি এবং তাঁর আশপাশে দায়িত্ব পালন করা অন্য সংসদ সদস্যরাও একই ধরনের দুর্নীতিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের সততার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে তাঁদের দলের ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঠিক একই রকম স্বচ্ছতার ঘোষণা আসবে। এমনকি বাকি দুই শতাধিক সংসদ সদস্যও কখনো দুর্নীতি করেননি এমন জোরালো নিশ্চয়তা যদি কেউ দিতে পারেন, তবে তাঁরা রাজনীতি চিরতরে ছেড়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন এই জামায়াত নেতা। দেশের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংকট ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি চিনি উৎপাদন এবং আমদানিনির্ভরতার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
আমির হামজা জানান যে দেশে বর্তমান সময়ে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির বিশাল চাহিদা রয়েছে, অথচ সরকারি চিনিকলগুলোতে উৎপাদন তলানিতে ঠেকায় বিপুল পরিমাণ চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত চালু করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন যে মিলগুলোর অধীনে থাকা শত শত বিঘা অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব, যা বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে সহায়তা করবে। এছাড়া সার, বীজ ও জ্বালানি খাতের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থ রক্ষায় আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।