
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মফস্বল এলাকাগুলোতেও। কাজের সুবাদে ঢাকায় অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাবনায় নিজ বাড়িতে ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। বর্তমানে পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে সারি সারি বিছানায় মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৪ জন রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে এই হাসপাতালে মোট ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৩৮ জন।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসাধীন রোগীদের একটি বড় অংশই জীবিকার টানে ঢাকায় অবস্থানরত শ্রমিক কিংবা চাকরিজীবী। ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক জাকির হোসেন জানান যে, কর্মস্থলে থাকাকালীন হঠাৎ জ্বর ও তীব্র শারীরিক ব্যথা অনুভব করায় পরীক্ষা করিয়ে তাঁর ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। পরবর্তীতে তিনি দ্রুত পাবনায় নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। একই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন অন্য রোগীর স্বজনরা। ঢাকা বা অন্যান্য কর্মস্থল থেকে জ্বর নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার এমন অনেক রোগী এখন সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান যে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সিংহভাগই ঢাকা থেকে ভাইরাস নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ওষুধপত্র ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে শুধু চিকিৎসালয়ে নির্ভর না করে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার এবং মশা থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা