
স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের আঙুল ছোঁয়ায় কেনাকাটার পুরো আবহ এখন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তবে অনলাইনে পছন্দের পণ্য অর্ডার করার সুফল মিললেও ক্রেতাদের মনে প্রায়শই পণ্যের সঠিক গুণগত মান, সঠিক দাম ও সময়মতো ডেলিভারি পাওয়া নিয়ে নানাবিধ সংশয় কাজ করে। ই-কমার্স খাতের এই পুরোনো আস্থার সংকট দূর করে কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে দেশীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘কার্টআপ’। ইউএস-বাংলা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারজাত হওয়া এই মার্কেটপ্লেসটি বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ পণ্য এবং ১০ হাজার নিবন্ধিত বিক্রেতাকে সাথে নিয়ে সারাদেশের গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে।
মার্কেটপ্লেসটির কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে দেশীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তি। ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই-বাছাই করার পর নতুন বিক্রেতাদের বিশেষ ‘সেলার গ্র্যাজুয়েশন’ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়, যাতে তারা সঠিক পণ্যের ছবি, মূল্য ও স্টকের তথ্য নির্ভুলভাবে আপলোড করতে পারেন। কোনো বিক্রেতা মানহীন পণ্য সরবরাহ করলে বা প্রতারণার আশ্রয় নিলে তাকে প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার কঠোর নীতি অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া অর্ডারের পর ক্রেতার হাতে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পৌঁছে দিতে সারাদেশে ১২টি অপারেশনাল হাব এবং কেন্দ্রীয় গুদামের সমন্বয়ে নিজস্ব শক্ত ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, আলিবাবা কিংবা ফ্লিপকার্টের মতো সফল মডেলের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে দেশীয় বাজারের চাহিদা ও ক্রেতাদের অভ্যাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছে কার্টআপ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়াদ আরেফিন জানান যে, দ্রুত ডেলিভারির চেয়ে ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য, যাতে একজন গ্রাহক নিশ্চিন্তে পণ্য অর্ডার করে সঠিক সময়ে মানসম্মত সেবা পেতে পারেন। অনলাইন কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বজায় রেখে আগামী দিনে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এবং সর্ববৃহৎ ই-কমার্স হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে এই দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি।