
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত যন্তর মন্তর অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাটকীয় মোড় নিয়েছে দেশটির রাজনীতি। পুলিশি ধরপাকড় ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত জেনেই দিল্লি আসার ঠিক আগে সিজেপির ভারপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতা ও প্রধান সংগঠক হিসেবে সংগঠনের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা অজিঙ্কা শিন্ডের নাম ঘোষণা করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার সকালে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিওবার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন, যা মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওবার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন যে সাধারণ মানুষ যখন এই বার্তা দেখতে পাবেন, ততক্ষণে তিনিসহ সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে যাবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে অজিঙ্কা শিন্ডে এই রাজপথের আন্দোলন এবং পুরো সিজেপি সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেন তিনি। ভোটার তালিকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যা প্রতিহত করতে দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল।
সিজেপির এই কর্মসূচিকে নস্যাৎ করতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জারি করে প্রশাসন। দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের সদস্য মোতায়েন করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়, ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দিল্লিগামী প্রায় আড়াইশ ট্রেন বাতিল করা হয়। এর মাঝেই মুম্বাই থেকে বিমানে নয়াদিল্লি পৌঁছানোমাত্র রানওয়েতে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং সিজেপির আইন শাখার প্রধান রত্না সিংহসহ গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া সাঁড়াশি অভিযানে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।