প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 10, 2026 ইং
দিল্লির যন্তর মন্তরে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত যন্তর মন্তর অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রতিহত করতে নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তর এলাকায় পৌঁছানোর সুযোগ না দিতে রাজধানীজুড়ে ট্রেন, মেট্রো ও বাস চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যার ফলে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পুরো দিল্লি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রশাসনের নির্দেশনায় এই কঠোর পদক্ষেপে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ বা বিক্ষোভকারীদের সমাবেশস্থলে ভিড় জমতে দেওয়া হচ্ছে না।
ঘটনাস্থল থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক গীতা পান্ডে জানিয়েছেন যে যন্তর মন্তরের চারপাশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সািবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়েছেন, মাথার ওপর ড্রোন দিয়ে সার্বিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কঠোর অবস্থানের কারণে কাউকেই সেই চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের ওপরও চড়াও হয়েছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম নিউজলন্ড্রি এবং স্ক্রল-এর বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।
সাধারণ বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের ওপরও পুলিশি ধরপাকড় ও দমনপীড়ন সমানভাবে চলছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও আটক করা হয়েছে। এছাড়া জার্মানি থেকে এই বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও তাঁর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সিজেপির এই আন্দোলন দমাতে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা ফাইলস ২০২৬