
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে মোদি সরকার রাজধানী নয়াদিল্লি ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কার্যত এক ‘কালো জরুরি অবস্থা’ বা ব্ল্যাক ইমার্জেন্সি জারি করেছে। সাবেক দিল্লি সরকারের বিধায়ক গোপাল রায় এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন সিইসিকে রক্ষা করতে পুরো নয়াদিল্লিকে সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছে, যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষণ হতে পারে না।
আম আদমি পার্টির দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে তরুণ প্রজন্ম এবং জেন-জি আন্দোলনকারীদের শক্তি দিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না। আন্দোলনকারীরা অহিংস পথ এবং দেশের সংবিধানে বিশ্বাসী হলেও সরকার বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে পুরো শহরে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। সিজেপির এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে এএপি-র সর্বভারতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইতিমধ্যেই তাঁর পরিবারসহ এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং দেশের তরুণদেরও এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কথিত 'ভোট চুরির' অভিযোগে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় সিজেপি। পুলিশ অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও তারা কর্মসূচি পালনে অনড় থাকলে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে কেন্দ্রীয় সরকার। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও সিআরপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, ৫৭টি মেট্রোরেল স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী প্রায় ২৫০টি দূরপাল্লার ট্রেন। এছাড়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাসহ প্রায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে পুলিশ আটক করায় দিল্লির সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।