
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনে থাকা একটি স্যুটকে ঘিরে প্রযুক্তি ও ফ্যাশন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার ঝড় উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর এই পোশাক নিয়ে চর্চা হওয়ার প্রধান কারণ হলো ট্রাম্পের মতো ধনকুবের প্রেসিডেন্ট একটি অপেক্ষাকৃত কম দামি ব্র্যান্ডের স্যুট পরে ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহু দূরে বাংলাদেশেও এই খবর নিয়ে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ট্রাম্পের পরা সেই স্যুটটি সম্ভবত বাংলাদেশে কিংবা চীনে তৈরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে আয়োজিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক এক নির্বাচনী জনসভায় গাঢ় নীল বা নেভি ব্লু রঙের একটি স্যুট পরে মঞ্চে হাজির হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তোলা কিছু হাই-রেজোলিউশন ছবিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে যে স্যুটটি মার্কিন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘জস. এ. ব্যাংক’ ব্র্যান্ডের, যা যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সাধারণ ও সস্তা মূল্যের পোশাক হিসেবে পরিচিত। ধনকুবের ট্রাম্প যিনি নিজের ব্যক্তিগত মার-এ-লাগো রিসোর্টে চরম বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং নিজের নামে লাখ ডলারের হাতঘড়ি বিক্রি করেন, তাঁর সাধারণ শপিং মল থেকে পোশাক কেনা তাঁর ব্যক্তিত্যের সাথে বেশ বেমানান বলেই মনে করছেন ফ্যাশন বিশ্লেষকরা।
ফ্যাশন সচেতনতার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রচারণার মূলভিত্তিই হলো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পণ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা। অথচ তিনি যে 'জস. এ. ব্যাংক' ব্র্যান্ডের স্যুটটি পরেছেন, তার অধিকাংশ পোশাক তৈরি হয় বাংলাদেশ বা চীনের মতো এশীয় দেশগুলোতে। ট্রাম্পের নিজস্ব অফিসিয়াল অনলাইন স্টোরে যেখানে আমেরিকান তৈরি একটি সাধারণ টাই ১২৫ ডলারে বিক্রি হয়, সেখানে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে বিদেশি সস্তা স্যুট পরা তাঁর নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। এটি কি সাধারণ ভোটারদের মন জয় করার কোনো পূর্বপরিকল্পিত চাল, নাকি বয়সের সাথে ট্রাম্পের ফ্যাশন রুচির পরিবর্তন তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।