
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার পথে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। উড়োজাহাজটি দিল্লি বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করার পরপরই পুলিশ সদস্যরা ভেতরে উঠে তাঁদের আটক করে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সভার আহ্বান জানিয়েছিল সিজেপি। পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি না দিলেও দলের তরফ থেকে নির্ধারিত সময়েই আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছানোর সাথে সাথেই এই আটকের ঘটনা ঘটে।
বিমানের ভেতর থেকে পুলিশ কর্তৃক আটক হওয়ার পুরো ঘটনাটি নিজের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তারা বিমানে প্রবেশ করার পর কিছুটা বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয় এবং সিজেপি নেতারা জানতে চান কেন বিমান থেকে নামার সুযোগ না দিয়ে ভেতরেই তাঁদের ঘিরে ধরা হলো। উপস্থিত নারী পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায় যে তাঁরা বিমান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত পুলিশ অপেক্ষা করতে পারত, তবে গ্রেপ্তার বা আটকে তাঁদের কোনো ভয় নেই। এই আটকের ঘটনাকে অত্যন্ত 'স্বৈরাচারী পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করে সিজেপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে দলের নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচাল করতে সকাল থেকেই দিল্লির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সকালের দিকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠী এবং সিজেপির আইনি প্রধান রত্না সিংহকে নিজ নিজ বাসস্থান থেকে আটক করা হয়। একই সাথে রাজধানীর যন্তর মন্তরগামী সাধারণ মানুষের চলাচল রোধ করতে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চল থেকে সহস্রাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লির ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে আড়াই শতাধিক দূরপাল্লার ট্রেন এবং রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে যাত্রীবাহী যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।