
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করার সময় দ্রুতগতির এক ঘাতক বাসের চাপায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন শাশুড়ি ও তাঁর পুত্রবধূ। শনিবার সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ঠাকুর পাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সকালে এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক বাসটি জব্দসহ এর হেলপারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বকশীগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রাত্যহিক অভ্যাসমতো দাঁত ব্রাশ করছিলেন ৬৫ বছর বয়সী উফেজা বেগম এবং তাঁর ৪০ বছর বয়সী ছেলের বউ ফরিদা বেগম। ঠিক সেই সময়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা 'শান্তি পরিবহন'-এর একটি দ্রুতগতির বাস কুড়িগ্রামের রৌমারীর উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ দুই নারী সদস্যকে সরাসরি চাপা দেয়। এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের করুণ মৃত্যু ঘটে। নিহত উফেজা বেগম এলাকার নুর ইসলামের মা এবং ফরিদা বেগম তাঁর স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তার ধারে একটু মুক্ত বাতাসে দাঁড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করার সময় চোখের নিমেষে ঘাতক বাসটি এসে তাঁদের ওপর উঠে যায়। হঠাৎ এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরিবারের সদস্যরা এই বেপরোয়া গাড়ি চালনার তীব্র বিচার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, একসাথে একই পরিবারের দুই নারীর এই মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতক বাসটি জব্দ করেছে এবং আটক হেলপার মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করছে।