
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধলেও, এটি এখন অনেকের কাছে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিশ্বমঞ্চে এই অনলাইন আক্রমণের মাত্রা পৌঁছে যায় মারাত্মক পর্যায়ে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ফিফার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবার (এসএমপিএস) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসরে দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি সাইবার হামলা ও অনলাইন বিদ্বেষের শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা। ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকের প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে এনেছে ফিফা।
বিশ্বকাপে দলগত আক্রমণের তালিকায় আর্জেন্টিনার পরপরই রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। গবেষণায় দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জাতীয় দল ও তাদের কোচ লিওনেল স্কালোনিকে লক্ষ্য করে প্রচুর বিদেশি-বিদ্বেষী (জেনোফোবিয়া) মন্তব্য করা হয়েছে, যার বড় অংশজুড়ে ছিল রেফারিদের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা পাওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ। তবে ব্যক্তিগতভাবে সাইবার আক্রমণের শিকার খেলোয়াড়দের তালিকায় আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের অবস্থান চতুর্থ। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যমূলক আক্রমণের শিকার হয়েছেন ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের ফুটবলাররা, যাদের ওপর মূলত আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে ব্যাপক বর্ণবাদী আক্রমণ চালানো হয়েছে।
ফিফার প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১ হাজার ৬০৬ জন খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অনলাইনে কোনো না কোনোভাবে হয়রানির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে ৮১২ জন সরাসরি আপত্তিকর বার্তা পেয়েছেন। তবে সবচেয়ে মারাত্মক হুমকির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা। দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানোর সন্দেহ থেকে রেফারিদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে হয়রানি করার মতো 'ডক্সিং' অপরাধ ঘটেছে। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সাধারণ ধরনের অনলাইন আক্রমণের সিংহভাগই এসেছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে যেসব বৈষম্যমূলক সাইবার হামলা চালানো হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশই ছিল বর্ণবাদী আক্রমণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অপব্যবহার রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ফিফার মডারেশন ব্যবস্থা। কোটি কোটি মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করে প্রায় ২৪ লাখ আপত্তিকর পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৯২ লাখ স্প্যাম ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা থেকে আড়াল করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে দুই হাজার ৯০৫টি অ্যাকাউন্ট তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৭৮৬টি অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে ফিফা।