
দীর্ঘ ২১ বছরের অবিশ্বাস্য এক রূপকথার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বের কাছে পরিচিতি পায় "দ্যা লাস্ট ট্যাঙ্গো" হিসেবে। আবেগঘন এই বিদায়ী ম্যাচেও নিজের চিরচেনা মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববাসীকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল। ফলে ৩-০ ব্যবধানের এক স্মরণীয় জয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনা থেকে বিদায় নিলেন জাতীয় দলের হয়ে ২০৮ ম্যাচ খেলা ও ১২৬ গোলের মালিক মেসি।
বুয়েনস আইরেসের প্যাকড স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে থেকেই বইছিল কান্নার সুর। স্টেডিয়ামের দিকে দলের বাস যাওয়ার সময় থেকেই ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হন মেসি, যা দেখে ধরে রাখতে পারেননি চোখের জল। ম্যাচের ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসান তিনি। শুধু গোল নয়, ম্যাচের ৪৮ মিনিটে নিকোলাস ওটামেন্দির হেডে করা গোলে চমৎকার কর্নার বাড়ান মেসি এবং পরবর্তীতে নিকো পাসকে দিয়ে করান দলের অপর গোলটি। ম্যাচের ১০ম মিনিটে খেলা সাময়িক থামিয়ে প্রতিপক্ষ বেনিনের খেলোয়াড়সহ গ্যালারির পঁচাশির হাজার সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান ১০ নম্বর জার্সির এই মহানায়ককে।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই মনুমেন্তালের আকাশ ছেয়ে যায় জাঁকজমকপূর্ণ ড্রোন শোতে, যেখানে ফুটে ওঠে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্মৃতিসহ তাঁর ক্যারিয়ারের অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলো। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত মেসি জানান, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে খেলা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা। আজ তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃখের দিনের মুখোমুখি, যা জাতীয় দলকে বিদায় জানানো। তবে খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় নিলেও গ্যালারিতে বসে সমর্থকদের পাশাপাশি সবসময় এই দলের পাশেই থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই বিদায়বেলায় প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথা স্মরণ করে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই কিংবদন্তি।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও তাঁর প্রিয় শিষ্যের বিদায়ে আবেগ সামলাতে পারেননি। তিনি জানান, মেসি যে অলৌকিক দ্যুতি মাঠে ছড়াতেন, তা আর কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেসির এই আন্তর্জাতিক অবসর ফুটবলের একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল। তবে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও আপাতত ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবলে নিজের জাদু দেখানো চালিয়ে যাবেন আটবারের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী এই মহাতারকা।