
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোটা শহরে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও দলটির সমর্থকরা প্রবেশ করতে পারে এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজধানীজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির সীমান্ত এলাকা, রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলোতে চলছে নজিরবিহীন কড়াকড়ি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির মধ্য অঞ্চলের কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা কিছু জায়গায় চালু রয়েছে। রেল চলাচলেও এর বড় প্রভাব পড়েছে; সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫৪টি মেল, এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লির সব খুচরা মদের দোকান এবং কনট প্লেসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যন্তর মন্তর, জনপথ এবং নির্বাচন কমিশনের দপ্তর সংলগ্ন ১.৫ কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী ও সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটকের জন্য ১২টি অস্থায়ী আটককেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে পুলিশ। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব দেশের বিভিন্ন রাজ্যকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। কঠোর এই নিরাপত্তার বেড়াজালে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে