
ভারতের বেঙ্গালুরুতে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ চমকপ্রদ সব তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। প্রেমিকার বাবা-মা ও বোনকে নৃশংসভাবে হত্যার পূর্বে অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে হামলা ও আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে বেঙ্গালুরুর কেআর পুরা এলাকার সিগেহাল্লিতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, লিভ-ইন সঙ্গী শ্বেতার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার আগে কেনেথ তার ল্যাপটপে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে হামলার সুনির্দিষ্ট উপায়, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে কাউকে কাবু করার কৌশল এবং একাধিক ব্যক্তিকে একসাথে ঘায়েল করার নানা পদ্ধতি নিয়ে ইন্টারনেট ও এআই চ্যাটবটে ব্যাপক খোঁজখবর করেছিলেন। এ ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার, ঋণসংক্রান্ত জটিলতা এবং নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার আইনি নিয়মকানুন সম্পর্কেও তিনি তথ্য খুঁজেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল অনুঘটক ছিল মারাত্মক অর্থনৈতিক বিরোধ ও ঋণের চাপ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রেমিকা শ্বেতা বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে কেনেথকে দেওয়া হয়েছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকগুলোর নোটিশ শ্বেতার পারিবারিক ঠিকানায় পৌঁছালে পরিবারে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গত ২২ জুন রাতে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর এ বিষয়ে কেনেথকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী হামলায় রূপ নেয়।
হামলার দিন সোমসুন্দর, তার স্ত্রী মুথুলক্ষ্মী এবং মেয়ে সুপ্রিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সোমসুন্দর ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হামলাকারী কেনেথের নাম বলে যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত একটি বোতলও উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) সৈদুলু আদাভাত এবং তদন্তকারীদের দাখিল করা ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে এই রোমহর্ষক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে