
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবেকদর অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আরবিতে ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান বা তাকদির নির্ধারণ করা। সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াত এবং সুরা কদরের প্রথম আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী, রমজান মাসেই এই বরকতময় রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। তবে শবেকদর ঠিক কোন রাতে ঘটবে, তা কোরআনে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিস অনুযায়ী, রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) শবেকদর অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। আমাদের সমাজে অনেকের মাঝে ২৭শে রমজানের রাতে শবেকদর হওয়ার প্রবল ধারণা থাকলেও, বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি কেবল ২৭ তারিখের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। বুখারি ও মুসলিম শরিফের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবীজি (সা.) কখনো ২১শে রাতে আবার কখনো ২৩শে রাতেও কদর পেয়েছেন বলে প্রমাণ রয়েছে। তবে সাতাশতম রাতে কদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক বলে অনেক সাহাবি ও ফকিহগণ মত দিয়েছেন।
হাদিস শরিফে এই বরকতময় রাত চেনার কিছু বিশেষ আলামত বা লক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো রাতটি হবে নাতিশীতোষ্ণ (খুব গরম বা খুব ঠান্ডা নয়), আকাশ পরিষ্কার ও প্রফুল্লময় থাকবে এবং ওই রাতে কোনো উল্কাপাত দেখা যাবে না। এছাড়া একটি বড় আলামত হলো, শবেকদরের পরদিন সকালে যে সূর্য উদিত হবে, তা হবে উজ্জ্বল কিন্তু তেজহীন বা নিষ্প্রভ। আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই রাতে পৃথিবীর নুড়ি পাথরের চেয়েও বেশি সংখ্যক ফেরেশতা জমিনে নেমে আসেন এবং মুমিন বান্দাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন।