
ফেসবুক পরিচয়ের সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার লোভ দেখিয়ে রাজধানীর পোস্তগোলা থেকে দৈনিক এদিন পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুকে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অর্থ লুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুক মেসেঞ্জারে ‘মামুন শেখ’ নামের একটি আইডির সঙ্গে সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর পরিচয় হয়। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস দাবি করে ওই ব্যক্তি বিটকয়েন ও অন্যান্য চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার কথা বলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে জুরাইনে দেখা করার অনুরোধ জানান। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন আলম মার্কেটের সামনে পৌঁছানোর পর মামুন ও তার সহযোগী ‘অনিক’ কথা বলার কথা বলে তাকে একটি মাইক্রোবাসে উঠতে বাধ্য করে। গাড়িতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে তার চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাতস্থানের উদ্দেশে রওনা দেয়।
প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা গাড়িতে ঘোরানোর পর তাকে একটি গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চারপাশ থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে পাহারা দিয়ে রাখে। অপহরণকারীরা তাকে সরকারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করার প্রসঙ্গ তুলে নানা গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার কথা উল্লেখ করে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাংক কার্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গভীর রাতে পুলিশ ও পরিবারের তৎপরতার সুযোগে এবং কোনোমতে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন বলে জানান।
এদিকে সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুকে অপহরণ ও জিম্মি করে অর্থ লুটের এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামসহ (আরআরএফ) বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। ডিআরইউ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া আরআরএফ নেতৃবৃন্দ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল নম্বর, আইএমইআই (IMEI) ট্র্যাকিং এবং এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন