
রাশিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত এক তরুণ গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রোগ ‘নিউমোনিক প্লেগ’। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্লেগের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ হিসেবে পরিচিত এই রোগটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের জন্য এর স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।
‘ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস’ নামক এক ধরনের বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে নিউমোনিক প্লেগ হয়ে থাকে, যা সরাসরি মানুষের ফুসফুসে আক্রমণ করে দ্রুত গুরুতর নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করে। প্লেগের সবচেয়ে পরিচিত ধরন বুবোনিক প্লেগ সাধারণত সংক্রামিত মাছির কামড়ের মাধ্যমে ছড়ালেও, নিউমোনিক প্লেগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এটি আক্রান্ত রোগীর হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে সরাসরি অন্য মানুষের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। চতুর্দশ শতকে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারির পেছনেও মূলত এই ব্যাকটেরিয়াই দায়ী ছিল।
এই রোগের উপসর্গগুলো অত্যন্ত দ্রুত প্রকাশ পায় এবং সাধারণত সংক্রমণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জ্বর, কাঁপুনি, মাথা ও শরীর ব্যথা, চরম ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা শুরু না করা হলে নিউমোনিক প্লেগ প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী প্রমাণিত হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা জেন্টামাইসিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হওয়ায় এটি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। চিকিৎসকদের মতে, সংক্রমণের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি শুরু করতে পারলে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
রাশিয়ার গবেষণাগারে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার পর বেশ কয়েকজনকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে বরং আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।