
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম (East-West) পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনের পরিমাণ দৈনিক ৫৮ লাখ ব্যারেলে (বিপিডি) পৌঁছেছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অনুষ্ঠিত GCC 2026 ফোরামের এক প্যানেল আলোচনায় তিনি বলেন, হামলার পর দ্রুত পাইপলাইনটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। সৌদি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ইরাকি মিলিশিয়ার ওপর দায়ী করা বড় ধরনের ড্রোন হামলার মাত্র পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি আবার ব্যবহার শুরু করা হয়।
প্রিন্স আবদুলআজিজ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজ সকাল পর্যন্ত আমরা আবার দৈনিক ৫৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছি।’
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদনক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি করতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে। ফলে সৌদি আরবের জন্য পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশ থেকে তেল সরবরাহে এই পথের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। সংকটের সময়ে ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন সৌদিকে বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে পাইপলাইনটিতে হামলার পর সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে বিশেষজ্ঞ দল পাইপলাইনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি যাচাইয়ের কাজ শুরু করে।
পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি ‘পেট্রোলাইন’ নামেও পরিচিত। ১৯৮১ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। পাইপলাইনটির সর্বোচ্চ পরিবহন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর প্রকৃত ব্যবহার সক্ষমতার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
পণ্যবাজারের তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এই পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছিল। জানুয়ারির পর এটি ছিল পাইপলাইনটির সর্বনিম্ন মাসিক পরিবহন মাত্রা।
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার কারণে ওই রুটে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়ায় পাইপলাইনটির ব্যবহারও প্রভাবিত হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ থেকে তেল পরিবহনে যুদ্ধজনিত বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে।
বর্তমানে এই বিকল্প রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে। এই পরিমাণ বৈশ্বিক মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।
তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মোট পরিবহন এখন দৈনিক ৫৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এতে হরমুজ প্রণালির ওপর সৌদি আরবের নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইয়ানবু বন্দর ও এই পাইপলাইনের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।