
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রবীণ শিল্পপতি এম গাজিউল হক আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এমজিএইচ গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাদ মাগরিব রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে গুণগ্রাহী ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করা এম গাজিউল হক বাংলাদেশের নৌপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে আজীবন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৬ সালে তিনি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা সে সময় ‘বার্ডস বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে পরিচিত ছিল।
পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে করপোরেট চাকরি ছেড়ে পুরোদমে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। চট্টগ্রামভিত্তিক স্বনামধন্য নৌপরিবহন কোম্পানি ‘অ্যাকোয়ামেরিন লিমিটেড’-এ অংশীদার হিসেবে যুক্ত হন গাজিউল হক। এর প্রায় এক দশক পর কোপেনহেগেনভিত্তিক বিশ্বখ্যাত নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান ‘মার্স্ক লাইন’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলেন ‘মার্স্ক বাংলাদেশ লিমিটেড’। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেন।
নৌপরিবহন খাতের পাশাপাশি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং, আমদানি-রপ্তানি, বিপণন, ব্যাংকিং এবং আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগের ব্যবসায় তাঁর সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা ছিল। ১৯৯৩ সালে তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল এবং পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই দফায় ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে তাঁর পুত্র আনিস আহমেদ এমজিএইচ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। গাজিউল হকের নামের আদ্যক্ষর (MGH) থেকে প্রতিষ্ঠানটির এই নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ থেকে ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি তাঁর দূরদর্শিতা ও দিকনির্দেশনায় পরবর্তীতে একটি সফল সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক গ্রুপে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে ২৬টি দেশে লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ভ্রমণ, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, মোবিলিটি, অর্থায়ন ও বিমাসহ বহুমুখী খাতে এমজিএইচ গ্রুপের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও করপোরেট খাতের বিকাশে তাঁর এই প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অনুভূত হচ্ছে।